গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি:- দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলার আলোচিত সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজ মেহেদী হাসান মিয়া ওরফে রাসেল (৩৪) এবং তার দুই সহযোগীকে ৫ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একইসঙ্গে প্রত্যেককে ২০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও ৪ মাসের কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে।
রবিবার গোপালগঞ্জের যুগ্ম জেলা জজ ও সহকারী দায়রা জজ ২য় আদালতের বিচারক ইয়াসিন আরাফাত জিআর-৩৪৬/২৩ মামলায় এ রায় ঘোষণা করেন। দণ্ডপ্রাপ্ত অপর দুই আসামি হলেন এসএম সাজিদ ইয়াসিন ওরফে ইয়াসিন শেখ এবং আব্দুল্লাহ শেখ ওরফে আব্দুল্লাহ।
মামলা সূত্রে জানা যায়, ২০২৩ সালের ১০ মার্চ কাশিয়ানী থানায় দায়ের করা মামলা নং-১১(৩) ২০২৩-এ দণ্ডবিধির ১৪৩/৪৪৭/৩৮৫/৩৪১/৫০৬/৩৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়। দীর্ঘ শুনানি শেষে আদালত এ রায় প্রদান করেন।
রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন মামলার বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট এম এ আলম সেলিম ও অ্যাডভোকেট ফয়সাল সিদ্দিকী। রায় ঘোষণার পর কাশিয়ানী এলাকায় স্বস্তির পরিবেশ সৃষ্টি হয়। বিভিন্ন স্থানে স্থানীয়দের মিষ্টি বিতরণ ও উল্লাস করতে দেখা গেছে।
এর আগে আসামি রাসেলের বিরুদ্ধে একাধিক মামলার ওয়ারেন্ট কার্যকর করতে গিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ব্যর্থ হওয়ার খবর বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়। ২০২৪ সালের নভেম্বর মাসে একটি হত্যা মামলায় গ্রেফতার হলেও পরে জামিনে মুক্ত হয়ে পুনরায় এলাকায় প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, রাসেল বাহিনীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস, খুনসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ রয়েছে। গোপালগঞ্জ ছাড়াও দেশের বিভিন্ন এলাকায় ভাড়াটে সন্ত্রাসী হিসেবেও তারা সক্রিয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
মেহেদী হাসান রাসেল কাশিয়ানী উপজেলার খাগড়াবাড়িয়া গ্রামের মৃত বালা মিয়ার ছেলে। তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা বিচারাধীন রয়েছে।
এছাড়া আশুলিয়া থানার হত্যা মামলা, গোপালগঞ্জে সেনাবাহিনীর গাড়িতে অগ্নিসংযোগ এবং সন্ত্রাসবিরোধী আইনে দায়ের করা মামলাসহ বিভিন্ন অভিযোগে তার বিরুদ্ধে আরও একাধিক মামলা রয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দীর্ঘদিন ধরে রাসেল বাহিনীর অত্যাচারে অতিষ্ঠ ছিলেন তারা। আদালতের এই রায়ে এলাকায় স্বস্তি ফিরে এসেছে বলে মন্তব্য করেছেন তারা।


